অর্শ্ব বা পাইলসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জেনেরিক নাম ও কাজ
অর্শ্ব বা পাইলসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জেনেরিক নাম ও কাজ সম্পর্কে
জানুন। পাইলসের রক্তপাত, ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর জেনেরিকগুলোর
তালিকা ও কোন জেনেরিকের কি কাজ এখানে তা দেওয়া হয়েছে।
অর্শ্ব বা পাইলস একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা
মলদ্বার বা রেকটামের রক্তনালির ফোলাভাব ও প্রদাহের কারণে হয়। এই রোগ
হলে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, ব্যথা, ফোলাভাব এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এই
রোগের সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে ও ওষুধ ব্যবহার করলে, এই সমস্যার উপসর্গ দ্রুত
নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সূচিপত্রঃ অর্শ্ব বা পাইলসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জেনেরিক নাম ও কাজ
এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যে সমস্ত তথ্য জানতে পারবেন তা এক নজরে দেখে নিন-
- অর্শ্ব বা পাইলসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জেনেরিক নাম ও কাজ
- অপারেশন ছাড়া পাইলস এর চিকিৎসা | অর্শ রোগ থেকে মুক্তির উপায়
- কি খেলে পাইলস ভালো হয়
- পাইলস হলে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে
- পাইলস রোগীদের জন্য দৈনন্দিন খাদ্য পরিকল্পনা উদাহরণ সহ
- পাইলস থেকে ক্যান্সার এর লক্ষণ
- পায়খানার পাইলস এর ছবি
- FAQs
- উপসংহার
অর্শ্ব বা পাইলসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জেনেরিক নাম ও কাজ
Antihemorrhoidal Drugs: অর্শ্ব বা পাইলসের চিকিৎসায়
ব্যবহৃত Antihemorrhoidal Drugs এই ওষুধগুলো মূলত মলদ্বারের ব্যথা,
রক্তপাত, চুলকানি, ফোলা এবং প্রদাহ কমাতে কাজ করে। জেনেরিক উপাদানভেদে কিছু
ওষুধ রক্তপাত বন্ধ করে, কিছু কিছু ওষুধ প্রদাহ কমায়, আবার কিছু ওষুধ ব্যথা ও
অস্বস্তি উপশম করে।
এসব ওষুধ রক্তনালির টোন বাড়ায় এবং স্থানীয়ভাবে ব্যথা ও চুলকানি উপশমে
সাহায্য করে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী এগুলো ট্যাবলেট, ক্রিম, সাপোজিটরি বা জেল
আকারে ব্যবহার করা হয়। চলুন আমরা এখন পাইলস এর চিকিৎসায় ঔষধের জেনেরিক
নাম জেনে নিই।
A) মৌখিক বা ইনজেকশন ফর্মে ব্যবহৃত
Venotonic & Hemostatic Agents: এই ওষুধগুলো রক্তনালির দৃঢ়তা বাড়ায়,
ফোলা ও রক্তপাত কমায়, এবং ক্যাপিলারির ভঙ্গুরতা কমায়।
- Diosmin + Hesperidin- এটি ভেনোটনিক ফ্ল্যাভোনয়েড যা পাইলস ও ভ্যারিকোজ ভেইনের চিকিৎসায় কার্যকর।
- Calcium Dobesilate- এটি ভ্যাসো-প্রটেকটিভ এজেন্ট যা রক্তনালির টোন উন্নত করে, প্রদাহ ও রক্তপাত কমায়।
- Tranexamic Acid- এটি অ্যান্টিফাইব্রিনোলাইটিক এজেন্ট যা অর্শ্বর রক্তপাত বন্ধে ব্যবহৃত হয়।
- Rutoside (Rutin) + Ascorbic Acid (Vitamin C)- এটি ক্যাপিলারি স্ট্যাবিলাইজার যা ছোট রক্তনালির ভঙ্গুরতা ও রক্তপাত কমায়।
- Troxerutin- এই জেনেরিকটি ভেনোপ্রটেকটিভ যা রক্তনালির পারমিয়াবিলিটি কমায়, ফোলা ও প্রদাহ হ্রাস করে।
B) Rectal use: পাইলস এর মলম নাম/ক্রিম/সাপোজিটরি
Local Anti-inflammatory & Anesthetic Agents: এগুলো সরাসরি
মলদ্বারে প্রয়োগ করা হয় এবং এগুলোও ব্যথা, ফোলা, চুলকানি, প্রদাহ ও সংক্রমণ
প্রতিরোধে কাজ করে।
- Hydrocortisone Suppository / Cream- এটি একটি কর্টিকোস্টেরয়েড যা ব্যথা, ফোলা, প্রদাহ কমায়।
- Lidocaine + Hydrocortisone Rectal Cream- ব্যথানাশক ও প্রদাহরোধী ক্রিম যা অর্শ্বর চুলকানি, জ্বালা, ব্যথা দ্রুত কমায়।
- Tribenoside + Lidocaine (Cream/Suppository)- প্রদাহরোধী ও ব্যথানাশক ক্রিম যা ফোলাভাব, জ্বালা ও অস্বস্তি উপশম করে।
- Zinc Oxide + Bismuth Subgallate + Balsam Peru + Hydrocortisone- মাল্টি-অ্যাকশন ফর্মুলা যা প্রদাহ কমায়, ত্বক রক্ষা করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
- Phenylephrine + Pramoxine + Glycerin + Hydrocortisone- এটি হল ভাসোকন্সট্রিক্টর (রক্তনালি সংকুচিত করে) যা ব্যথা, জ্বালা ও ফোলা কমায়।
- Hamamelis Virginiana (Witch Hazel) Extract- এই জেনেরিক হচ্ছে প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট যা ফোলা ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
- Benzocaine + Bismuth Subgallate + Balsam Peru- এটি ব্যথানাশক ও সুরক্ষামূলক কম্বিনেশন ফর্মুলা যা মলদ্বারের ব্যথা ও প্রদাহ কমায়।
ব্যবহারবিধি ও পরামর্শ: প্রাথমিক পর্যায়ে ডক্টররা মৌখিক ভেনোটনিক
(Diosmin/Hesperidin) + স্থানীয় ক্রিম/সাপোজিটরি একসাথে ব্যবহারের নির্দেশ
দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে ইসপগুলের ভুসি (Psyllium Husk), পানি ও ফাইবারসমৃদ্ধ
খাবার গ্রহণ করা জরুরি। আবার গুরুতর ক্ষেত্রে (বারবার রক্তপাত বা বড় গুটি)
লেজার বা সার্জিক্যাল চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
অপারেশন ছাড়া পাইলস এর চিকিৎসা | অর্শ রোগ থেকে মুক্তির উপায়
অনেকেই মনে করেন যে পাইলস হলে সার্জারি বা অপারেশন করতেই হবে, কিন্তু বাস্তবে
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক ও মাঝারি পর্যায়ের পাইলস অপারেশন ছাড়াই চিকিৎসা
করা সম্ভব।
প্রথম ধাপে চিকিৎসার মূল লক্ষ্য থাকে ব্যথা ও রক্তপাত কমানো, প্রদাহ হ্রাস করা
এবং রক্তনালির দৃঢ়তা বাড়ানো। এ জন্য কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দেওয়া হয় এবং সেই সাথে
লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হয়।
ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা: পাইলসের প্রাথমিক চিকিৎসায় মৌখিক
ভেনোটনিক ও হেমোস্ট্যাটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এগুলো রক্তনালির টোন
বাড়িয়ে দেয়, ক্যাপিলারির ভঙ্গুরতা কমায় এবং রক্তপাত ও ফোলাভাব নিয়ন্ত্রণে
সাহায্য করে যা আমরা উপরে জেনেছি।
পাইলসের ব্যথা, ফোলাভাব, প্রদাহ এবং চুলকানি দ্রুত উপশম করার জন্য ক্রিম,
সাপোজিটরি বা জেল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এগুলো সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগাতে
হয় এবং খুব ভালো কাজ করে, ফলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
জীবনধারা পরিবর্তন ও খাদ্যাভ্যাস: পাইলসের চিকিৎসায় শুধু ওষুধ নয়,
কিছু লাইফস্টাইল পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার
(শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য) খেতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ইসপগুলের ভুসি (Psyllium Husk) খেতে হবে। দীর্ঘসময়
টয়লেটে বসে থাকা বা টয়লেটে অতিরিক্ত সময় কাটানো এড়িয়ে চলতে হবে।
সিটজ বাথ ও স্থানীয় যত্ন: প্রয়োজনে দিনে কয়েকবার গরম পানিতে
থাকতে হবে। এটিকে বলা হয় সিটজ বাথ) যা অর্শ্ব এর ব্যথা ও ফোলা দ্রুত
কমাতে সাহায্য করে।
গরম পানিতে দিনে দুই থেকে তিনবার ১০–১৫ মিনিট বসে থাকতে হবে। এই
পদ্ধতি মলদ্বারের রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং প্রদাহ হ্রাস করে। যেখানে পাইলস
হয়েছে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে সংক্রমণের
ঝুঁকি না থাকে।
প্রয়োজনীয় হালকা চিকিৎসা পদ্ধতি: যদি ওষুধ ও জীবনধারা পরিবর্তনেও
পর্যাপ্ত ফল না পাওয়া যায়, তবে সার্জারি ছাড়াও কিছু নন-সার্জিক্যাল
চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমনঃ
- রাবার ব্যান্ড লিগেশন চিকিৎসা পদ্ধতি– এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে হেমোরয়েডে ছোট রাবার ব্যান্ড লাগিয়ে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে গুটি শুকিয়ে ফেলা হয়।
- ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন চিকিৎসা পদ্ধতি– এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে তাপ দিয়ে হেমোরয়েড সংকুচিত করা হয়।
- স্ক্লেরোথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি –এই পদ্ধতিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে হেমোরয়েড ছোট করে দেওয়া হয়।
কবে সার্জারির প্রয়োজন হয় বা হতে পারে?
যদি
- পাইলস ৩য় বা ৪র্থ স্টেজে পৌঁছে যায়
- বড় আকারের গুটি হয়
- বারবার রক্তপাত হয়
- ওষুধে আরাম পাওয়া না যায়
তখন লেজার বা সার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে প্রাথমিক ও মাঝারি পর্যায়ের অধিকাংশ পাইলস রোগীকে সঠিক ওষুধ এবং জীবনধারা
পরিবর্তনের মাধ্যমে সার্জারি ছাড়াই সুস্থ করা সম্ভব।
কি খেলে পাইলস ভালো হয়
পাইলস বা অর্শ রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো
কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। মল শক্ত হয়ে গেলে মলত্যাগের
সময় অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে মলদ্বারের রক্তনালিতে ফোলাভাব তৈরি হয় এবং অর্শের
উপসর্গ বাড়ে। সঠিক খাবার গ্রহণ করলে এই কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায় কারণ তখন মল নরম
থাকে। ফলে পাইলসের ব্যথা ও অস্বস্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিচে পাইলস রোগীদের জন্য উপকারী কিছু খাবারের তালিকা ও তাদের উপকারিতা আলোচনা
করা হলো।
১. ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার
পাইলসের চিকিৎসায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে উপকারী। ফাইবার মলকে নরম করে এবং
মলত্যাগ সহজ করে দেয়, ফলে রক্তনালির ওপর চাপ কমে যায়।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে-
- শাকসবজি: পালং শাক, লাল শাক, লাউ, পুঁইশাক, করলা, ঢেঁড়স।
- ফল: পেঁপে, আপেল, কলা, নাশপাতি, কমলা, পেয়ারা।
- গোটা শস্য: লাল চাল, ওটস, গম, বার্লি।
- ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: মসুর ডাল, ছোলা, মটরশুটি, সয়াবিন।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং
অর্শের উপসর্গ অনেকটা কমে যায়।
২. পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার
পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং মল নরম থাকে। পাইলসের
রোগীদের প্রতিদিন অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এছাড়া তরল খাবার যেমন
স্যুপ, ফলের রস (চিনি ছাড়া) এবং হারবাল চা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য
প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৩. প্রোবায়োটিক খাবার
প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা হজম
প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের উপসর্গ
কমে যায়।
প্রোবায়োটিক খাবারের মধ্যে রয়েছে-
- দই (চিনি ছাড়া)
- কেফির
- আচার বা ফারমেন্টেড খাবার ইত্যাদি।
৪. প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ খাবার
কিছু খাবার প্রাকৃতিকভাবে মল নরম করে এবং সহজে হজম হয়, যা পাইলসের জন্য
উপকারী।
যেমন-
- পাকা পেঁপে ও কলা
- ডাবের পানি
- ইসপগুলের ভুসি (Psyllium Husk) ইত্যাদি।
পাইলস হলে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে
পাইলসের উপসর্গ বাড়াতে পারে এমন কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
যেমন-
- অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাদার খাবার
- ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবার
- অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
- ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল
এসব খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায় এবং পাইলসের ব্যথা ও
প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়।
পাইলস রোগীদের জন্য দৈনন্দিন খাদ্য পরিকল্পনা উদাহরণ সহ
পাইলস রোগীদের জন্য দৈনন্দিন খাদ্য পরিকল্পনা উদাহরণ সহ নিচে দেওয়া হল-
- সকালের নাশতা: ওটস বা লাল চালের পায়েস, সাথে ফল (আপেল বা কলা)।
- দুপুরের খাবার: ভাত বা রুটি, ডাল, শাকসবজি, মাছ বা মুরগি (গ্রিল/সেদ্ধ)।
- বিকালের নাশতা: দই বা হারবাল চা, সাথে পাকা পেঁপে।
- রাতের খাবার: হালকা ভাত বা খিচুড়ি, সাথে শাকসবজি।
- ঘুমানোর আগে: ইসপগুলের ভুসি পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়া।
সকল ধরনের খাবার প্রত্যেকের শরীরে একই ধরনের প্রভাব নাও ফেলতে পারে। তাই
আপনার শরীরে কোন খাবারগুলো ম্যাচিং করে সেগুলো আপনি বেশি খাবেন।
পাইলস থেকে ক্যান্সার এর লক্ষণ
পাইলস বা অর্শ রোগ সাধারণত ক্যান্সারের কারণ নয়, তবে অনেক সময় মলদ্বার বা
কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো পাইলসের সাথে মিলে যেতে পারে। এজন্য
দীর্ঘদিনের অর্শের উপসর্গ থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি।
পাইলস থেকে আলাদা করে ক্যান্সারের সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ হলো-
- মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত বেড়ে যাওয়া।
- কালো বা গাঢ় রঙের মল, যা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ইঙ্গিত হতে পারে।
- মলদ্বারের চারপাশে গুটি বা শক্ত গাঁট অনুভব হওয়া।
- ওজন হ্রাস, ক্ষুধামান্দ্য ও দুর্বলতা—যা সাধারণ অর্শে দেখা যায় না।
- মলত্যাগের অভ্যাস হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া (কখনও পাতলা, কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য)।
যদি এই লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকে, তাহলে দেরি না করে কোলোনোস্কোপি বা প্রয়োজনীয়
পরীক্ষা করে ক্যান্সারের ঝুঁকি নির্ণয় করতে হবে।
পায়খানার পাইলস এর ছবি
পায়খানার দ্বারে পাইলস দেখতে কেমন হয় সে সম্পর্কে আপনারা অনেকেই সার্চ করে
থাকেন এজন্য আমি এখন পাইলসের ছবি নিচের প্রদান করছি-
FAQs
১. অর্শ রোগের ইংরেজি কী?
উত্তর: অর্শ রোগকে ইংরেজিতে Hemorrhoids বলা হয়। এটি মলদ্বার বা রেকটামের
রক্তনালির ফোলাভাবজনিত একটি অবস্থা, যা ব্যথা, রক্তপাত ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
২. পাইলস এর ইংরেজি নাম কী?
উত্তর: পাইলসের ইংরেজি নামও Hemorrhoids। এটি অর্শ রোগের আরেকটি প্রচলিত নাম।
৩. অর্শ রোগের লক্ষণ কী কী?
উত্তর: অর্শের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- মলত্যাগের সময় রক্তপাত,
মলদ্বারের ব্যথা ও চুলকানি, ফোলাভাব, বসার সময় অস্বস্তি এবং কখনও মলদ্বারের
বাইরে গুটি অনুভব হওয়া।
৪. অর্শ রোগের ওষুধ কী?
উত্তর: অর্শের চিকিৎসায় সাধারণত ফাইবার সাপ্লিমেন্ট, ব্যথানাশক,
হাইড্রোকর্টিসনযুক্ত মলম, ভেনোটনিক ট্যাবলেট এবং সাপোজিটরি ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার
অর্শ্বের চিকিৎসায় সঠিক জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার উপসর্গ কমাতে এবং রোগ
নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ রোগীর অবস্থা ও পর্যায়ভেদে চিকিৎসা ভিন্ন
হয়। ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত
ব্যায়াম করলে এই রোগ থেকে দ্রুত আরোগ্য মেলে।


