বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নাম: কোন রোগের কি টেস্ট করা হয় জানুন
এই আর্টিকেল থেকে জানুন কোন রোগের জন্য কোন মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। আরো জানুন
এই সকল টেস্ট সমূহের নির্ভুলতা, সীমাবদ্ধতা, বাংলাদেশে প্রাপ্যতা ও খরচ সম্পর্কে।
বিভিন্ন রোগের পরীক্ষায় সঠিক টেস্ট করুন এবং সুস্থ থাকুন।
শরীরে যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন আমরা ডাক্তারের কাছে ছুটি। কিন্তু ডাক্তার
কীভাবে বোঝেন আমাদের কী হয়েছে? এর জন্য দরকার হয় সঠিক রোগ নির্ণয়ের, আর সেটা
সম্ভব হয় বিভিন্ন মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে।
কোন রোগের জন্য কি টেস্ট করা হয়, তা জানলে আমরা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে
পারি। ভুল টেস্ট বা দেরিতে টেস্ট করানোর ফলে রোগের সমস্যা বাড়তে পারে।
সূচিপত্রঃ বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নাম
এই আর্টিকেল থেকে আপনারা যে সমস্ত তথ্যগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন তা এক নজরে
এখান থেকে দেখে নিন-
বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নাম
এই লেখায় আমরা আলোচনা করব কোন রোগের কি টেস্ট করা হয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল
টেস্টের নাম সম্পর্কে। আমার লক্ষ্য হলো আপনাকে সাধারণ রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা
সম্পর্কে সহজ ভাষায় ধারণা দেওয়া, যাতে আপনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতন
হতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ ঔষধের জেনেরিক নাম ও কাজ
চলুন, সর্বপ্রথম আমরা রোগের শ্রেণীবিভাগ গুলো জেনে নিই তারপর আমরা বিভিন্ন রোগের
পরীক্ষার নাম গুলো জেনে নিব।
রোগের শ্রেণিবিভাগ
রোগের ধরন অনুযায়ী রোগ নির্ণয়ের জন্য আলাদা আলাদা টেস্ট করা হয়। কোন রোগের
জন্য কি পরীক্ষা করা হয় সেটা জানার আগে আপনাকে বিভিন্ন রোগ গুলো সম্পর্কে
জানতে হবে। তাই সহজে বোঝার জন্য আমি রোগগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছি।
প্রতিটি শ্রেণির রোগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, আর তাদের জন্য নির্দিষ্ট টেস্ট
আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।
নিচে রোগের সব শ্রেণির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো-
সংক্রামক রোগ (Infectious Diseases)
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের কারণে এই রোগগুলো হয়। যেমন, ডেঙ্গু,
টাইফয়েড, টিবি, বা হেপাটাইটিস। এই রোগ গুলো দ্রুত ছড়ায়, তাই তাড়াতাড়ি
টেস্টের মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ (Chronic Diseases)
এই রোগগুলো দীর্ঘদিন থাকে আর ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করে। যেমন, ডায়াবেটিস বা
উচ্চ রক্তচাপ। নিয়মিত এই সমস্ত রোগগুলোর টেস্ট করালে, এই রোগগুলোকে
নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
হরমোনাল বা এন্ডোক্রাইন রোগ (Endocrine Disorders)
শরীরের হরমোনের সমস্যা থেকে এই রোগ হয়। যেমন, থাইরয়েড সমস্যা বা পিসিওএস।
এগুলোর জন্য হরমোন টেস্ট করা হয়।
ক্যান্সার-সম্পর্কিত রোগ (Cancer-Related Diseases)
ক্যান্সার শরীরের যেকোনো অংশে হতে পারে, যেমন স্তন বা ফুসফুসে। ক্যান্সার কোন
স্টেজে রয়েছে তা নির্ণয়ের জন্য বিশেষ টেস্ট দরকার।
রক্ত-সম্পর্কিত রোগ (Blood Disorders)
রক্তের সমস্যা, যেমন রক্তস্বল্পতা বা লিউকেমিয়া। এগুলোর জন্য রক্ত পরীক্ষা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদরোগ এবং সংবহনতন্ত্রের রোগ (Cardiovascular Diseases)
হৃদপিণ্ড বা রক্তনালীর সমস্যা, যেমন হার্ট অ্যাটাক। এগুলোর জন্য ইসিজি বা অন্য
টেস্ট করানো হয়।
পরিপাকতন্ত্রের রোগ (Gastrointestinal Disorders)
পেট, লিভার বা অন্ত্রের সমস্যা, যেমন গ্যাস্ট্রিক। এগুলোর জন্য ইমেজিং টেস্ট বা
বিশেষ পরীক্ষা করানো লাগে।
হাড় ও জয়েন্টের রোগ (Musculoskeletal Disorders)
হাড় বা জয়েন্টের সমস্যা, যেমন আর্থ্রাইটিস। এগুলোর জন্য রক্ত পরীক্ষা বা
এক্স-রে করা দরকার।
গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত অবস্থা (Pregnancy-Related Conditions)
গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা বা জটিলতা ধরার জন্য বিশেষ টেস্ট রয়েছে। এই টেস্ট গুলো
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের রোগ (Kidney and Urinary Disorders)
কিডনি বা মূত্রনালীর সমস্যা, যেমন ইউরিনারি ইনফেকশন। এগুলোর জন্য রক্ত বা মূত্র
পরীক্ষা করানো হয়।
নিউরোলজিকাল বা মাথা-সম্পর্কিত রোগ (Neurological Disorders)
মাথা, মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, যেমন মাথাব্যথা বা স্ট্রোক। এগুলোর
জন্য ইমেজিং টেস্ট করা দরকার।
ত্বক-সম্পর্কিত রোগ (Skin Disorders)
ত্বকের সংক্রমণ বা অ্যালার্জি, যেমন একজিমা। এগুলোর জন্য ত্বক পরীক্ষা বা
বায়োপসি করানো হয়।
নাক-সংক্রান্ত রোগ (Nasal Disorders)
যেমন: রাইনাইটিস (নাকের প্রদাহ), সাইনাসাইটিস (সাইনাসের প্রদাহ), এলার্জিক রাইনাইটিস।
এই রোগগুলো সাধারণত নাক বন্ধ, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে। নাকের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য নাকের পরীক্ষা বা সাইনাস এক্স-রে করা হতে পারে।
কান-সংক্রান্ত রোগ (Ear Disorders)
যেমন: মধুমেহ, শ্রবণ সমস্য, মেনিয়ার ডিজিজ, কান ধরে যাওয়া।
কান সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর জন্য শ্রবণ পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করা হয়।
গলা-সংক্রান্ত রোগ (Throat Disorders)
যেমন: টনসিলাইটিস (টনসিলের প্রদাহ), ফ্যারিঞ্জাইটিস (গলার প্রদাহ), গলার ক্যান্সার।
গলা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর জন্য গলা পরীক্ষা, ল্যাব টেস্ট বা স্কোপি করা হতে পারে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য কোন পরীক্ষা করা হয়?
নিচে প্রতিটি রোগের শ্রেণির কিছু সাধারণ রোগ এবং তাদের নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত
মেডিকেল টেস্টের তালিকা দেওয়া হলো। এই তালিকা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে কোন
রোগের জন্য কি টেস্ট করা হয় এবং কেন এই টেস্টগুলো জরুরি।
আরো পড়ুনঃ মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং
সংক্রামক রোগের পরীক্ষা (Infectious Diseases)
ডেঙ্গু জ্বর:
- Dengue NS1 Antigen Test: এই টেস্টের মাধ্যমে জ্বরের প্রথম কয়েকদিনে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরতে পারি।
- IgM/IgG Antibody Test: সংক্রমণ কতদিনের পুরোনো তা বোঝা যায় এই টেস্টের মাধ্যমে।
টাইফয়েড:
- Widal Test: টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করে এই টেস্টের মাধ্যমে।
- Blood Culture: সংক্রমণের কারণ শনাক্ত করে।
টিবি (যক্ষ্মা):
- Sputum Test: ফুসফুসে টিবি ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করে।
- Mantoux Test: এই টেস্ট টিবি সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ ধরতে পারে।
- Chest X-Ray: ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা দেখায়।
ম্যালেরিয়া:
- Malaria Antigen Test: ম্যালেরিয়া পরজীবী শনাক্ত করে।
- Peripheral Blood Smear: রক্তে পরজীবী দেখায়।
হেপাটাইটিস:
- HBsAg: হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ধরে।
- Anti-HCV: হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নির্ণয় করতে পারে।
জ্বর বা সাধারণ সংক্রমণ:
- CBC (Complete Blood Count): এই টেস্টের মাধ্যমে শ্বেতকণিকার সংখ্যা দেখে সংক্রমণের তীব্রতা নির্ণয় করা যায়।
- ESR (Erythrocyte Sedimentation Rate): শরীরে প্রদাহের মাত্রা নির্ণয় করে।
দীর্ঘস্থায়ী রোগের পরীক্ষা (Chronic Diseases)
ডায়াবেটিস:
- Fasting Blood Sugar (FBS): খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে।
- 2 Hours After Breakfast (2HABF): খাবারের পর শর্করার মাত্রা দেখায়।
- HbA1c: এই টেস্ট গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা নির্দেশ করে।
উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল:
- Lipid Profile: রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা পরীক্ষা করে।
- Blood Pressure Monitoring: এই টেস্ট রক্তচাপ পরিমাপ করে।
হরমোনাল বা এন্ডোক্রাইন রোগের পরীক্ষা (Endocrine Disorders)
থাইরয়েড সমস্যা:
- TSH (Thyroid Stimulating Hormone): থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা দেখা যায় এই টেস্টের মাধ্যমে।
- T3, T4: এই টেস্ট থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা নির্দেশ করে।
পিসিওএস (Polycystic Ovary Syndrome):
- USG Lower Abdomen: ডিম্বাশয়ে সিস্ট শনাক্ত করে।
- LH, FSH (Luteinizing Hormone, Follicle Stimulating Hormone): হরমোনের ভারসাম্য পরীক্ষা করে।
- Prolactin: দুধের হরমোনের মাত্রা দেখায়।
- TSH: পিসিওএসের সাথে থাইরয়েড সমস্যা আছে কিনা পরীক্ষা করে।
- AMH (Anti-Müllerian Hormone): ডিম্বাশয়ের সক্ষমতা বোঝায়, বিশেষ করে বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনায়।
ক্যান্সার পরীক্ষার নাম কী কী (Cancer-Related Diseases)
স্তন ক্যান্সার:
- Mammogram: স্তনে টিউমার বা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে।
- Biopsy: সন্দেহজনক টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যান্সার নিশ্চিত করে।
ফুসফুস ক্যান্সার:
- Chest CT Scan: ফুসফুসে টিউমার আছে কিনা তা দেখা যায়।
- Sputum Cytology: কফে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে।
লিভার ক্যান্সার:
- LFT (Liver Function Test): লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে।
- AFP (Alpha-Fetoprotein): লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি পরীক্ষা করে।
রক্ত-সম্পর্কিত রোগের পরীক্ষা (Blood Disorders)
রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া):
- CBC (Complete Blood Count): লোহিত কণিকার সংখ্যা ও গুণগত মান দেখায়।
- Serum Iron: রক্তে আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করে।
- Ferritin: শরীরে আয়রনের মজুদ নির্দেশ করে।
- Vitamin B12: ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি অ্যানিমিয়ার কারণ কিনা তা পরীক্ষার জন্য এই টেস্ট করা হয়।
লিউকেমিয়া:
- CBC: অস্বাভাবিক শ্বেতকণিকার সংখ্যা দেখা যায় এই টেস্টের মাধ্যমে।
- Bone Marrow Aspiration: অস্থি মজ্জায় ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে।
হৃদরোগ এবং সংবহনতন্ত্রের রোগের পরীক্ষা (Cardiovascular Diseases)
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ:
- ECG (Electrocardiogram): হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ দেখায়।
- Troponin I: হৃদপিণ্ডের পেশির ক্ষতি নির্দেশ করে।
- Lipid Profile: কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করে।
- Echocardiogram: হৃদপিণ্ডের গঠন ও কার্যকারিতা দেখায় (ডাক্তারের পরামর্শে)।
পরিপাকতন্ত্রের রোগের পরীক্ষা (Gastrointestinal Disorders)
পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা:
- USG Whole Abdomen: পেটের অঙ্গগুলোর অবস্থা দেখায়।
- Endoscopy: পাকস্থলী বা অন্ত্রের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা করে (প্রয়োজনে)।
- H. Pylori Test: গ্যাস্ট্রিকের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করে।
হাড় ও জয়েন্টের রোগের পরীক্ষা (Musculoskeletal Disorders)
আর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ব্যথা:
- RA Factor: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নির্ণয়ে সাহায্য করে।
- CRP (C-Reactive Protein): শরীরে প্রদাহের মাত্রা দেখায়।
- Uric Acid: গাউটের কারণে ইউরিক অ্যাসিড বেশি কিনা তা পরীক্ষা করে।
- X-Ray: হাড় ও জয়েন্টের ক্ষতি দেখায়।
গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত অবস্থা (Pregnancy-Related Conditions)
গর্ভাবস্থা নিশ্চিতকরণ:
- Urine β-hCG: গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হয়েছে কিনা তারপর তা করার জন্য এই টেস্ট করা হয়।
- USG Pregnancy Profile: ভ্রূণের অবস্থা ও বৃদ্ধি পরীক্ষা করে।
কিডনি ও মূত্রতন্ত্রের রোগের পরীক্ষা (Kidney and Urinary Disorders)
কিডনির সমস্যা:
- Creatinine: কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে।
- Urea: রক্তে বর্জ্য পদার্থের মাত্রা দেখায়।
- Urine R/E (Routine and Microscopy): মূত্রে সংক্রমণ বা অন্য সমস্যা শনাক্ত করে।
নিউরোলজিকাল বা মাথা-সম্পর্কিত রোগের পরীক্ষা (Neurological Disorders)
মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন:
- CT Scan of Brain: মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকতা বা টিউমার শনাক্ত করে।
- MRI of Brain: মস্তিষ্কের বিস্তারিত ছবি দেখায়, বিশেষ করে জটিল মাথাব্যথার ক্ষেত্রে।
স্ট্রোক:
- CT Scan or MRI: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্লক শনাক্ত করে।
- Carotid Doppler Ultrasound: ঘাড়ের রক্তনালীতে ব্লক আছে কিনা তা সনাক্ত করে।
মৃগী বা খিঁচুনি:
- EEG (Electroencephalogram): মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরীক্ষা করে।
ত্বক-সম্পর্কিত রোগের পরীক্ষা (Skin Disorders)
ত্বকের সংক্রমণ বা অ্যালার্জি:
- Skin Patch Test: ত্বকের অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করে।
- Skin Scraping Test: ছত্রাক বা পরজীবী সংক্রমণ পরীক্ষা করে।
একজিমা বা সোরিয়াসিস:
- Skin Biopsy: ত্বকের টিস্যু পরীক্ষা করে রোগ নিশ্চিত করে।
- Blood Test for IgE: অ্যালার্জি-সম্পর্কিত সমস্যা শনাক্ত করে।
নাক-সংক্রান্ত রোগের পরীক্ষা (Nasal Disorders)
রাইনাইটিস (Nasal Allergies):
- Skin Prick Test: অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান শনাক্ত করে।
- Nasal Smear: নাকে সেল পরীক্ষা করে অ্যালার্জি বা সংক্রমণ নির্ণয় করা হয়।
সাইনাসাইটিস (Sinusitis):
- Sinus X-Ray: সাইনাসের অবস্থা এবং প্রদাহ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
- CT Scan of Sinuses: সাইনাসের গভীর সমস্যা শনাক্ত করতে প্রয়োজন।
কান-সংক্রান্ত রোগের পরীক্ষা (Ear Disorders)
শ্রবণ সমস্যা (Hearing Loss):
- Audiometry: শ্রবণক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- Tuning Fork Test: শোনার ক্ষমতা পরিমাপের জন্য এক ধরনের পরীক্ষার পদ্ধতি।
মেনিয়ার ডিজিজ (Ménière's Disease)
- MRI of the Brain: মস্তিষ্কের অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে মেনিয়ার ডিজিজের কারণে ন্যাশনাল সমস্যাগুলি নির্ণয় করা হয়।
গলা-সংক্রান্ত রোগের পরীক্ষা (Throat Disorders)
টনসিলাইটিস (Tonsillitis):
- Throat Culture: গলা থেকে নমুনা নিয়ে সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়।
- Rapid Antigen Test: স্ট্রেপ্টোকোকাল ইনফেকশন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ফ্যারিঞ্জাইটিস (Pharyngitis)
- Throat Swab: গলা থেকে পরীক্ষা করে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়।
গলার ক্যান্সার (Throat Cancer)
- Laryngoscopy: গলার ভেতরের অংশ দেখতে এবং ক্যান্সার নির্ণয় করতে এই পরীক্ষা করা হয়।
- Biopsy: সন্দেহজনক টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়।
বিভিন্ন রোগের টেস্টের প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতি
মেডিকেল টেস্ট করানোর আগে জানা জরুরি যে এগুলো কীভাবে করা হয় এবং এর জন্য কীভাবে
প্রস্তুতি নিতে হবে। নিচে কিছু সাধারণ টেস্টের প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতির বিষয়ে
সংক্ষেপে বলা হলো।
এতে করে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন রোগের পরীক্ষার টেস্ট করানোর আগে আপনাকে কি
করতে হবে সে সম্পর্কে।
সাধারণ রক্ত পরীক্ষা (যেমন CBC, Lipid Profile, FBS, Creatinine)
প্রক্রিয়া:
একজন টেকনিশিয়ান আপনার হাতের শিরা থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত নেবেন একটি সিরিঞ্জ
দিয়ে। এটি খুবই সাধারণ এবং কয়েক মিনিটের একটি প্রক্রিয়া।
প্রস্তুতি:
FBS বা Lipid Profile-এর জন্য ৮-১২ ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হয়। পর্যাপ্ত পানি
পান করুন যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়। ডাক্তারকে জানান যদি আপনি কোনো ওষুধ
খেয়ে থাকেন, কারণ কিছু ওষুধ ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মূত্র পরীক্ষা (যেমন Urine R/E, Urine β-hCG)
প্রক্রিয়া:
আপনাকে একটি পরিষ্কার পাত্রে মূত্রের নমুনা দিতে হবে। এটি ল্যাবে পরীক্ষা করা
হয় মাইক্রোস্কোপ বা রাসায়নিক পদ্ধতিতে।
প্রস্তুতি:
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম মূত্র সাধারণত সবচেয়ে ভালো ফলাফল দেয় এই
টেস্টের জন্য। পাত্রে নমুনা দেওয়ার আগে হাত ও জননাঙ্গ ভালো করে ধুয়ে নিন।
মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় টেস্ট এড়িয়ে চলা উচিত, তবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর
করবে ডাক্তারের পরামর্শের উপর।
ইমেজিং টেস্ট (যেমন X-Ray, USG, CT Scan, MRI)
প্রক্রিয়া:
- X-Ray: একটি মেশিন দিয়ে শরীরের নির্দিষ্ট অংশের ছবি তোলা হয়। এটি কয়েক মিনিট সময় নিয়ে সম্পূর্ণ করা হয়।
- USG (Ultrasound): শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ছবি দেখা হয়।
- CT Scan/MRI: মেশিনে শুয়ে থাকতে হয় এবং ছবি তোলা হয়।
প্রস্তুতি:
ধাতব জিনিস যেমনঃ গয়না, ঘড়ি খুলে রাখুন। USG-এর জন্য কখনো কখনো পানি পান করে
মূত্রাশয় ভর্তি রাখতে হয়। CT বা MRI-এর জন্য ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী খালি
পেটে থাকতে হতে পারে।
বিশেষ টেস্ট (যেমন Endoscopy, Biopsy, EEG)
প্রক্রিয়া:
- Endoscopy: একটি পাতলা টিউবের সাথে ক্যামেরা দিয়ে পাকস্থলী বা অন্ত্রের ভেতর দেখা হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় বা পূর্ণ অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হতে পারে।
- Biopsy: সন্দেহজনক টিস্যু থেকে ছোট নমুনা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।
- EEG: মাথায় ছোট ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করা হয়।
প্রস্তুতি:
Endoscopy-এর জন্য ৬-৮ ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হয়। Biopsy-এর আগে ডাক্তারকে
জানান যদি আপনি রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান। EEG-এর জন্য চুল পরিষ্কার রাখুন এবং
ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।
ত্বক পরীক্ষা (যেমন Skin Patch Test, Skin Scraping)
প্রক্রিয়া:
- Skin Patch Test: ত্বকে ছোট ছোট প্যাচ লাগিয়ে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা হয়।
- Skin Scraping: ত্বকের পৃষ্ঠ থেকে নমুনা নিয়ে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা হয়।
প্রস্তুতি:
টেস্টের আগে ত্বকে ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করবেন না। ডাক্তারকে জানান যদি আপনি
অ্যালার্জির ওষুধ খান।
নাক-সংক্রান্ত রোগের পরীক্ষা (Nasal Disorders)
Skin Prick Test (নাকের অ্যালার্জি):
প্রক্রিয়া: ত্বকে একাধিক অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান দিয়ে ছোট ছোট প্রিক করা হয়, যেখানে কিছু অ্যালার্জি রিঅ্যাকশন দেখা যায়।
প্রস্তুতি: টেস্টের আগে অ্যালার্জি ওষুধ এড়ানো উচিত (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।
Nasal Smear (সাইনাস বা নাকের সংক্রমণ):
প্রক্রিয়া: নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।
প্রস্তুতি: মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষার জন্য রোগীর নাক ভালোভাবে পরিষ্কার করা দরকার।
কান-সংক্রান্ত রোগের পরীক্ষা (Ear Disorders)
Audiometry (শ্রবণ পরীক্ষা):
প্রক্রিয়া: শ্রবণক্ষমতা পরিমাপ করতে হেডফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রবণসীমার শব্দ শোনা হয়।
প্রস্তুতি: কোনো তীব্র শব্দ বা ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দের প্রভাব এড়ানোর জন্য শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা করা হয়।
Tuning Fork Test (কান সংক্রান্ত সমস্যা):
প্রক্রিয়া: একটি টিউনিং ফর্ক চেপে ধরে কান বা মাথার কাছাকাছি আনা হয়, তার মাধ্যমে শোনার সমস্যা নির্ণয় করা হয়।
প্রস্তুতি: পরীক্ষার পূর্বে কান বা মস্তিষ্কে কোনো সমস্যা থাকলে তা ডাক্তারের সাথে শেয়ার করুন।
গলা-সংক্রান্ত রোগের পরীক্ষা (Throat Disorders)
Throat Culture (টনসিলাইটিস বা গলার ইনফেকশন):
প্রক্রিয়া: গলা থেকে তুলা দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা হয়।
প্রস্তুতি: টেস্টের আগে মাউথওয়াশ বা গারগল করা উচিত নয়।
Laryngoscopy (গলার ক্যান্সার বা গলার অসুখ):
প্রক্রিয়া: গলার ভেতরের অংশ দেখতে একটি পাতলা টিউব ব্যবহার করা হয়।
প্রস্তুতি: টেস্টের আগে ৪-৬ ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হবে।
অন্যান্য টেস্ট (যেমন ECG, Sputum Test)
প্রক্রিয়া:
- ECG: বুকে এবং হাত-পায়ে ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে হৃদপিণ্ডের কার্যকলাপ পরীক্ষা করা হয়।
- Sputum Test: কফের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।
প্রস্তুতি:
ECG-এর জন্য আলগা পোশাক পরুন এবং ব্যায়াম বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন। Sputum
Test-এর জন্য গভীর শ্বাস নিয়ে কফ বের করতে হবে।
এই প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতির ধারণাগুলো টেস্ট করানোর সময় আপনাকে সঠিক ফলাফল দিতে
সাহায্য করবে। পরীক্ষার মাধ্যমে কি কি রোগ নির্ণয় করা যায় তা জানা থাকলে আপনি
আরও সচেতনভাবে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার টেস্টের নির্ভুলতা এবং সীমাবদ্ধতা
মেডিকেল টেস্টগুলো রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কিন্তু এগুলোর
নির্ভুলতা এবং কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কোন রোগের জন্য কি টেস্ট করা হয় তা জানার
পাশাপাশি এই টেস্টগুলোর ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য এবং কখন এগুলো সঠিক ফলাফল নাও
দিতে পারে তা বোঝা জরুরি।
নিচে কিছু সাধারণ টেস্টের নির্ভুলতা এবং সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
সাধারণ রক্ত পরীক্ষা (যেমন CBC, Lipid Profile, FBS, Creatinine)
নির্ভুলতা:
- CBC রক্তে শ্বেতকণিকা, লোহিত কণিকা এবং অন্যান্য উপাদানের মাত্রা খুব নির্ভুলভাবে পরিমাপ করে। এটি সংক্রমণ বা রক্তস্বল্পতা ধরতে অত্যন্ত কার্যকর।
- FBS এবং HbA1c ডায়াবেটিস নির্ণয়ে সাধারণত ৯৫% এর বেশি নির্ভুল।
- Lipid Profile কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিকভাবে দেখায়, যদি সঠিক প্রস্তুতি (যেমন খালি পেটে) নেওয়া হয়।
- Creatinine কিডনির কার্যকারিতা নির্ভুলভাবে নির্দেশ করে।
সীমাবদ্ধতা:
- খালি পেটে না থাকলে FBS বা Lipid Profile-এর ফলাফল ভুল হতে পারে।
- কিছু ওষুধ (যেমন স্টেরয়েড) CBC বা Creatinine-এর ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- CBC সংক্রমণের ধরন নির্দিষ্টভাবে বলতে পারে না তাই এর জন্য অতিরিক্ত টেস্ট লাগতে পারে।
মূত্র পরীক্ষা (যেমন Urine R/E, Urine β-hCG)
নির্ভুলতা:
- Urine β-hCG গর্ভাবস্থা নির্ণয়ে প্রায় ৯৯% নির্ভুল, বিশেষ করে সকালের প্রথম মূত্রে এই টেস্ট করলে না ৯৯% সঠিক উত্তর আসে।
- Urine R/E মূত্রনালীর সংক্রমণ বা অন্য সমস্যা ধরতে অত্যন্ত কার্যকর।
সীমাবদ্ধতা:
- মূত্রের নমুনা পরিষ্কার না হলে ফলাফল ভুল হতে পারে।
- Urine β-hCG গর্ভাবস্থার খুব প্রাথমিক পর্যায়ে নেগেটিভ ফলাফল দিতে পারে।
- ঋতুস্রাব বা কিছু ওষুধ মূত্র পরীক্ষার ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইমেজিং টেস্ট (যেমন X-Ray, USG, CT Scan, MRI)
নির্ভুলতা:
- X-Ray হাড়ের ক্ষতি বা ফুসফুসের সমস্যা (যেমন টিবি) ধরতে খুব নির্ভুল।
- USG টেস্ট গর্ভাবস্থা বা পেটের অঙ্গের সমস্যায় প্রায় ৯০% সঠিক উত্তর দেয়।
- CT Scan এবং MRI মস্তিষ্ক, ফুসফুস বা অন্য অঙ্গের বিস্তারিত ছবি দিতে অত্যন্ত কার্যকর।
সীমাবদ্ধতা:
- X-Ray নরম টিস্যু বা ছোট টিউমার ধরতে পারে না।
- USG-এর ফলাফল টেকনিশিয়ানের দক্ষতার উপর নির্ভর করে।
- CT বা MRI-এর জন্য কনট্রাস্ট ডাই ব্যবহার করলে অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকতে পারে।
- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য X-Ray বা CT Scan ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষ টেস্ট (যেমন Endoscopy, Biopsy, EEG)
নির্ভুলতা:
- Endoscopy পাকস্থলী বা অন্ত্রের সমস্যা (যেমন আলসার) নির্ভুলভাবে ধরে।
- Biopsy ক্যান্সার নির্ণয়ে প্রায় ৯৫% সঠিক উত্তর দেয়।
- EEG মৃগী বা খিঁচুনির কারণ শনাক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর।
সীমাবদ্ধতা:
- Endoscopy-এর ফলাফল ডাক্তারের দক্ষতার উপর নির্ভর করে।
- Biopsy-এর জন্য সঠিক টিস্যু নমুনা নেওয়া না হলে ফলাফল ভুল হতে পারে।
- EEG সবসময় খিঁচুনির কারণ নির্দিষ্টভাবে বলতে পারে না তাই এর জন্য অতিরিক্ত টেস্ট লাগতে পারে।
ত্বক পরীক্ষা (যেমন Skin Patch Test, Skin Scraping)
নির্ভুলতা:
- Skin Patch Test অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করতে প্রায় ৮৫-৯০% সঠিক উত্তর দেয়।
- Skin Scraping ছত্রাক সংক্রমণ ধরতে অত্যন্ত কার্যকর।
সীমাবদ্ধতা:
- Skin Patch Test-এর ফলাফল বোঝাতে ৪৮-৭২ ঘণ্টা লাগতে পারে।
- অ্যালার্জির ওষুধ খেলে Skin Patch Test ভুল ফলাফল দিতে পারে।
- Skin Scraping-এ সঠিক নমুনা না পেলে ফলাফল নেগেটিভ হতে পারে।
নাকের পরীক্ষা (যেমন Nasal Endoscopy, Nasal Swab)
নির্ভুলতা:
- Nasal Endoscopy: নাকের ভিতরের অংশ এবং সাইনাসের সমস্যা যেমন সাইনুসাইটিস বা নাকের টিউমার নির্ণয় করতে অত্যন্ত কার্যকর।
- Nasal Swab: ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা COVID-19 সনাক্ত করতে ৯৫% নির্ভুল।
সীমাবদ্ধতা:
- Nasal Endoscopy: স্থানীয় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের পরেও কিছু ক্ষেত্রে অসুস্থতা বা অস্বস্তি হতে পারে।
- Nasal Swab: ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া একাধিক স্ট্রেইন থাকলে ফলাফল ভুল হতে পারে।
কান পরীক্ষা (যেমন Audiometry, Tympanometry)
নির্ভুলতা:
- Audiometry: শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষা করে এবং শ্রবণ সমস্যার ধরন নির্ধারণ করে প্রায় ৯৫% নির্ভুল।
- Tympanometry: কানের পর্দার কার্যকারিতা এবং মধ্যকর্ণের সমস্যা সনাক্ত করতে কার্যকর।
সীমাবদ্ধতা:
- Audiometry: কিছু ক্ষেত্রে, যেমন শারীরিক বা মানসিক চাপের কারণে পরীক্ষার ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে।
- Tympanometry: মধ্যকর্ণের সমস্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে সব সময় যথাযথ ফলাফল দেয় না, বিশেষত যদি রক্ত বা অতিরিক্ত মিউকাস থাকে।
গলা পরীক্ষা (যেমন Throat Swab, Laryngoscopy)
নির্ভুলতা:
- Throat Swab: গলার সংক্রমণ বা ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সনাক্ত করতে অত্যন্ত নির্ভুল।
- Laryngoscopy: গলার ভিতরের অংশ, যেমন গলায় টিউমার বা ভোকাল কর্ডের সমস্যা চিহ্নিত করতে ৯৫% নির্ভুল।
সীমাবদ্ধতা:
- Throat Swab: গলার স্বাবের সময় সঠিক নমুনা সংগ্রহ না করলে ফলাফল ভুল হতে পারে।
- Laryngoscopy: কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের পরেও গলার গঠন পরিবর্তিত হতে পারে এবং সঠিক ফলাফল পাওয়া কঠিন।
অন্যান্য টেস্ট (যেমন ECG, Sputum Test)
নির্ভুলতা:
- ECG হৃদপিণ্ডের সমস্যা (যেমন হার্ট অ্যাটাক) ধরতে প্রায় ৯০% নির্ভুল।
- Sputum Test টিবি বা অন্য ফুসফুসের সংক্রমণ ধরতে অত্যন্ত কার্যকর।
সীমাবদ্ধতা:
- ECG সব হৃদপিণ্ডের সমস্যা ধরতে পারে না; কখনো Echocardiogram লাগতে পারে।
- Sputum Test-এর জন্য ভালো মানের কফের নমুনা প্রয়োজন, অন্যথা ফলাফল ভুল হতে পারে।
কোনো টেস্টই ১০০% নির্ভুল নয়। ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ডাক্তার অন্য টেস্ট বা
লক্ষণ পরীক্ষা করে রোগ নিশ্চিত করেন। টেস্টের ফলাফল ভুল হতে পারে যদি প্রস্তুতি
সঠিকভাবে না নেওয়া হয় বা ল্যাবের যন্ত্রপাতি ত্রুটিপূর্ণ হয়
পরীক্ষার মাধ্যমে কি কি রোগ নির্ণয় করা যায় তা জানার পাশাপাশি তাদের
নির্ভুলতা এবং সীমাবদ্ধতা বোঝা আপনাকে সঠিক চিকিৎসার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে মেডিকেল টেস্ট: প্রাপ্যতা এবং খরচ
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন ধরনের
মেডিকেল টেস্ট পাওয়া যায়।
নিচে কিছু সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের তালিকা দেওয়া হলো-
বাংলাদেশে সাধারণত পাওয়া যায় এমন টেস্ট
রক্ত পরীক্ষা (Blood Tests)
- কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS) এবং র্যান্ডম ব্লাড সুগার (RBS)
- হিমোগ্লোবিন A1c (HbA1c)
- লিপিড প্রোফাইল (Cholesterol Test)
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT)
- কিডনি ফাংশন টেস্ট (KFT)
- থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট (TSH, T3, T4)
ইউরিন টেস্ট (Urine Tests)
- রুটিন ইউরিন পরীক্ষা (Urine R/M/E)
- ইউরিন কালচার
- ইমেজিং টেস্ট (Imaging Tests):
- এক্স-রে (X-Ray)
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG)
- সিটি স্ক্যান (CT Scan)
- এমআরআই (MRI)
- ইসিজি (ECG) এবং ইকোকার্ডিওগ্রাম
সংক্রমণ নির্ণয় টেস্ট (Infection Detection Tests)
- হেপাটাইটিস বি (HBsAg) এবং হেপাটাইটিস সি (Anti-HCV)
- এইচআইভি টেস্ট
- ডেঙ্গু NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট
- কোভিড-১৯ পিসিআর টেস্ট
মহিলাদের জন্য বিশেষ টেস্ট
- প্যাপ স্মিয়ার
- স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং (ম্যামোগ্রাফি)
- হরমোন টেস্ট (যেমন, প্রোজেস্টেরন, ইস্ট্রোজেন)
- শিশুদের জন্য টেস্ট:
- জন্মের সময় স্ক্রিনিং
- রক্ত পরীক্ষা (যেমন, নবজাতকের জন্য থাইরয়েড টেস্ট)
নাক (Nose) সম্পর্কিত টেস্ট
রাইনোস্কোপি: নাকের ভিতরের অংশ পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন নাকের শ্লেষ্মা, প্রদাহ বা সংক্রমণ।
এন্ডোস্কপি: নাকের ভিতরে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে ব্যবহৃত হয়, যেমন নাকের রক্তক্ষরণ বা নাকের যন্ত্রণা।
কান (Ear) সম্পর্কিত টেস্ট
অডিওমেট্রি: শ্রবণ পরীক্ষা যা কান সম্পর্কিত সমস্যা যেমন শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া শনাক্ত করতে সহায়ক।
টিম্প্যানোমেট্রি: কানের পর্দা এবং শ্রবণ নালির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
গলা (Throat) সম্পর্কিত টেস্ট
থ্রোট কালচার: গলা বা কন্ঠের ইনফেকশন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, যেমন স্ট্রেপ্টোকোকাল ইনফেকশন।
ল্যারিংস্কোপি: গলার ভিতরের অংশ পরীক্ষা করে গলা বা কন্ঠের কোনো সমস্যা যেমন টিউমার, প্রদাহ বা অন্যান্য সমস্যা নির্ধারণ করা হয়।
ফ্লোরোসাইটোস্কোপি: গলার স্ট্রাকচার এবং অঙ্গের কার্যকারিতা পরখ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে টেস্টের প্রাপ্যতা এবং খরচ
সরকারি হাসপাতাল
প্রাপ্যতা: সরকারি হাসপাতালে (যেমন, বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল) সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন টেস্ট, এক্স-রে, ইসিজি এবং কিছু বিশেষ
টেস্ট (যেমন, হেপাটাইটিস, থাইরয়েড) করানো যায়।
তবে উন্নত টেস্ট যেমন এমআরআই বা সিটি স্ক্যান সব সরকারি হাসপাতালে সবসময়
উপলব্ধ নাও হতে পারে। বিএসএমএমইউ-এর মতো সরকারি হাসপাতালে উন্নত ল্যাবরেটরি
সুবিধা রয়েছে, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এখানে রোগের পরীক্ষার
টেস্ট করাতে অনেক দেরি হয়।
সরকারি হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট খরচ: সরকারি হাসপাতালে টেস্টের খরচ
তুলনামূলকভাবে কম, কারণ সরকার এক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান করে।
উদাহরণস্বরূপ:
- CBC: ২০০-৫০০ টাকা
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার: ১০০-৩০০ টাকা
- ইসিজি: ১৫০-৩০০ টাকা
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি: ৫০০-১০০০ টাকা
- সিটি স্ক্যান: ২০০০-৫০০০ টাকা (যদি উপলব্ধ থাকে)
নাক, কান, গলা সম্পর্কিত পরীক্ষার প্রাপ্যতা এবং খরচ:
সরকারি হাসপাতাল:
প্রাপ্যতা: সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণত নাক, কান, গলা সম্পর্কিত কিছু টেস্ট পাওয়া যায়, তবে উন্নত টেস্টগুলো সব সময় উপলব্ধ নাও থাকতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ:
রাইনোস্কোপি এবং অডিওমেট্রি কিছু সরকারি হাসপাতাল যেমন বিএসএমএমইউ বা ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাওয়া যায়।
খরচ: সরকারি হাসপাতালে টেস্টের খরচ কম, তবে কিছু টেস্টের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
বেসরকারি হাসপাতাল
প্রাপ্যতা: বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে (যেমন, ইবনে
সিনা, পপুলার, স্কয়ার) প্রায় সব ধরনের টেস্ট পাওয়া যায়, যার মধ্যে উন্নত
ইমেজিং টেস্ট (এমআরআই, সিটি স্ক্যান) এবং বিশেষ হরমোন টেস্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দ্রুত রিপোর্ট প্রদানের সুবিধা
রয়েছে। ইবনে সিনার মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শরীরের পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে ২৫%
ছাড় দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষদের খরচ কিছুটা কমায়।
বেসরকারি হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট খরচ: বেসরকারি হাসপাতালে টেস্টের খরচ
সাধারণত সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেশি।
উদাহরণস্বরূপ (ইবনে সিনার তথ্য অনুযায়ী, ২৫% ছাড় সহ)-
- CBC: ৩৩৭.৫০ টাকা
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার: ১১২.৫০ টাকা
- TSH: ৭৫০ টাকা
- এমআরআই (ব্রেন): ৫২৫০ টাকা
- সিটি স্ক্যান (ব্রেন): ৩০০০ টাকা
- স্বাস্থ্য চেকআপ প্যাকেজ: ১৯৫০-১২৭৫০ টাকা (প্যাকেজের ধরন অনুযায়ী)
নাক, কান, গলা সম্পর্কিত পরীক্ষার প্রাপ্যতা এবং খরচ:
বেসরকারি হাসপাতাল:
প্রাপ্যতা: বেসরকারি হাসপাতালে নাক, কান, গলা সম্পর্কিত বেশিরভাগ টেস্ট পাওয়া যায় এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণস্বরূপ:
এন্ডোস্কপি, অডিওমেট্রি এবং ল্যারিংস্কোপি ইবনে সিনা বা স্কয়ার হাসপাতালে প্রাপ্ত।
খরচ: বেসরকারি হাসপাতালে নাক, কান, গলা সম্পর্কিত টেস্টের খরচ সরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
তুলনা: সরকারি হাসপাতালে খরচ কম হলেও সেবার গতি ধীর কারণ এখানে প্রচুর
রোগী ভর্তি হয়। বেসরকারি হাসপাতালে দ্রুত এবং উন্নত সেবা পাওয়া যায়, তবে
এখানে খরচ বেশি।
আরবিসি টেস্ট কি
আরবিসি টেস্ট হলো রক্তে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells বা RBC) পরীক্ষার
একটি প্যাথলজি টেস্ট, যা সাধারণত CBC (Complete Blood Count)-এর অংশ। এটি
লোহিত কণিকার সংখ্যা, আকার, এবং হিমোগ্লোবিন পরিমাপ করে, যা অক্সিজেন
পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্তস্বল্পতা, পলিসাইথেমিয়া, বা অন্য
রক্ত-সম্পর্কিত রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
আরবিসি টেস্ট কেন করা হয়?
- রক্তস্বল্পতা (Anemia): লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে গেলে এই টেস্টের মাধ্যমে অ্যানিমিয়া ধরা পড়ে।
- পলিসাইথেমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে আরবিসি টেস্ট করানো হয়।
- রক্তের অন্যান্য সমস্যা: লিউকেমিয়া বা অন্য রক্ত-সম্পর্কিত রোগ নির্ণয়ে আরবিসি টেস্ট করানো হয়।।
- সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা: শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য এই টেস্ট করানো হয়।
- অন্যান্য রোগের ঝুঁকি: এছাড়া কিডনি লিভার বা হৃদরোগের সমস্যায় বা অন্য যেকোনো রোগের ঝুঁকিতে ডাক্তার এই টেস্ট দিয়ে থাকে।
রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার নাম
রক্তের পরীক্ষা (Blood Tests) রোগ নির্ণয়, স্বাস্থ্য মূল্যায়ন এবং চিকিৎসার
অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল
এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা করানো যায়। নিচে
রক্তের সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার নাম, তাদের উদ্দেশ্য দেওয়া হলো।
রক্তের সব পরীক্ষার নাম কী কী
ডাক্তারের কাছে যেকোনো রোগ নিয়ে চিকিৎসার জন্য গেলেই সর্বপ্রথম আমাদের রক্ত
পরীক্ষার টেস্ট দেয়। তাই আমাদের জানা উচিত বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষার
সমূহের নাম গুলো সম্পর্কে।
| পরীক্ষার নাম | পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্য |
|---|---|
| CBC (Complete Blood Count) | লোহিত কণিকা (RBC), শ্বেত কণিকা (WBC), প্লাটিলেট, হিমোগ্লোবিন ও হেমাটোক্রিট পরিমাপ করা। রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণ, লিউকেমিয়া ইত্যাদি নির্ণয় করা। |
| PBF (Peripheral Blood Film) | রক্তকণিকার আকার, আকৃতি ও অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা করা। অ্যানিমিয়া বা পরজীবী সংক্রমণ ধরতে এই টেস্ট করা হয়। |
| ESR (Erythrocyte Sedimentation Rate) | শরীরে প্রদাহ বা সংক্রমণের মাত্রা নির্ণয় (যেমন: আর্থ্রাইটিস, টিবি)। |
| Blood Grouping (ABO & Rh) |
রক্তের গ্রুপ নির্ণয় (যেমন: A+, O-)। রক্তদান বা গ্রহণের জন্য।
|
|
FBS (Fasting Blood Sugar)
|
খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস নির্ণয়ে এটি করানো হয়। |
|
HbA1c (Glycated Hemoglobin)
|
গত ২-৩ মাসের গড় শর্করার মাত্রা নির্ণয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য। |
| Lipid Profile | কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড পরীক্ষা। হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন। |
|
LFT (Liver Function Test)
|
লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা (যেমন: বিলিরুবিন, ALT, AST)। হেপাটাইটিস বা লিভার ক্ষতি নির্ণয়। |
| KFT (Kidney Function Test) | কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা (যেমন: ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া)। কিডনি রোগ নির্ণয়ে। |
| TSH, T3, T4 (Thyroid Function Tests) | থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা। হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম নির্ণয়। |
| HBsAg | হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নির্ণয় করা। |
| Anti-HCV | হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নির্ণয় করা। |
| Dengue NS1 Antigen/IgM/IgG | ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয়। |
| Malaria Antigen Test | ম্যালেরিয়া পরজীবী শনাক্তকরণ। |
| Widal Test | টাইফয়েড জ্বর নির্ণয়। |
| Blood Culture |
রক্তে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণ শনাক্তকরণ।
|
| Serum Iron/Ferritin |
আয়রনের মাত্রা ও স্টোরেজ। অ্যানিমিয়া নির্ণয়ে।
|
| Vitamin B12 | ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি পরীক্ষা। অ্যানিমিয়া বা স্নায়ু সমস্যায়। |
| Troponin I | হার্ট অ্যাটাক নির্ণয়। |
| LH, FSH, Prolactin | হরমোন পরীক্ষা। পিসিওএস বা বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়। |
| AMH (Anti-Müllerian Hormone) | ডিম্বাশয়ের সক্ষমতা পরীক্ষা। বন্ধ্যাত্বের জন্য। |
| RA Factor | রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নির্ণয়। |
| CRP (C-Reactive Protein) | শরীরে প্রদাহ পরীক্ষা। |
| ASO Titre | স্ট্রেপ্টোকক্কাল সংক্রমণ (গলার সমস্যা) নির্ণয়। |
| AFP (Alpha-Fetoprotein) | লিভার ক্যান্সার বা গর্ভাবস্থার জটিলতা পরীক্ষা। |
| HIV Test | এইচআইভি ভাইরাস নির্ণয়। |
| Blood for Micro-Filaria | ফাইলেরিয়া পরজীবী শনাক্তকরণ। |
| ANCA (Anti-Neutrophil Cytoplasmic Antibodies) | অটোইমিউন রোগ নির্ণয়। |
মেডিকেল টেস্ট করানোর জন্য সাধারণ টিপস এবং সতর্কতা
মেডিকেল টেস্ট করানোর সময় কিছু সাধারণ টিপস এবং সতর্কতা নিশ্চিত করতে পারেন।
যেমনঃ
সবসময় ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে টেস্ট করান। আপনার অবস্থা, ওষুধ, বা অন্য
কোনো বিশেষ অবস্থা সম্পর্কে ডাক্তারকে জানান। টেস্টের জন্য ডাক্তারের নির্দেশনা
মেনে চলুন, যেমন খালি পেটে থাকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ বন্ধ করা।
নির্ভুল ফলাফলের জন্য সঠিক নমুনা সংগ্রহ (রক্ত, মূত্র, কফ) এবং প্রক্রিয়া মেনে
চলুন। টেস্টের ফলাফল শুধুমাত্র ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে বুঝুন, কারণ ফলাফলের
ব্যাখ্যা জটিল হতে পারে। সঠিক ও নির্দিষ্ট সময়ে টেস্ট করান (যেমন, সকালের
প্রথম মূত্র) সঠিক ফলাফলের জন্য।
FAQs
১) কানের শ্রবণ পরীক্ষার নাম কী?
কানের শ্রবণ ক্ষমতা যাচাই করার জন্য যে পরীক্ষা করা হয় তাকে অডিওমেট্রি
(Audiometry Test) বলা হয়। এছাড়াও অটো-অ্যাকোস্টিক এমিশন (OAE) এবং
টিম্পানোমেট্রি (Tympanometry) নামক পরীক্ষার মাধ্যমেও কানের শ্রবণ শক্তি ও
শ্রবণ-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নির্ণয় করা হয়।
২) ৭ রক্ত পরীক্ষা কী?
সাধারণভাবে "৭ রক্ত পরীক্ষা" বলতে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচক যাচাইয়ের
জন্য ব্যবহৃত ৭টি রক্ত পরীক্ষাকে বোঝানো হয়। এগুলোর মধ্যে সাধারণত থাকে-
- Complete Blood Count (CBC) – রক্তের বিভিন্ন কোষ ও হিমোগ্লোবিন
- Blood Sugar (Fasting/Random/PP) – ডায়াবেটিস যাচাই
- Lipid Profile – কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড
- Liver Function Test (LFT) – লিভারের কার্যকারিতা
- Kidney Function Test (KFT) – কিডনির অবস্থা
- Thyroid Function Test (TFT) – থাইরয়েড হরমোন
- Uric Acid – গেঁটে ব্যথা বা কিডনি সমস্যা
৩) কিভাবে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পরীক্ষা করা হয়?
অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য
বিভিন্ন ইমেজিং টেস্ট ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট ব্যবহার করা হয়। যেমন:
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) – পেটের ভেতরের অঙ্গ পরীক্ষা
- এক্স-রে (X-ray) – হাড় ও ফুসফুস পরীক্ষা
- ইসিজি (ECG) ও ইকোকার্ডিওগ্রাম – হৃদপিণ্ড পরীক্ষা
- সিটি স্ক্যান (CT Scan) – বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত ছবি
- এমআরআই (MRI) – মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও অন্যান্য নরম টিস্যুর পরীক্ষা
- এন্ডোস্কপি/কোলনোস্কপি – খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও অন্ত্র পরীক্ষা
উপসংহার
মেডিকেল টেস্টগুলো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে সাধারণ এই টেস্টগুলো সহজেই পাওয়া যায়, তবে উন্নত টেস্টের জন্য শহরে
যাওয়া লাগতে পারে। গ্রামীণ এলাকায় সীমিত সুবিধা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। মনে রাখবেন
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা আপনার সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি, তাই
বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নামগুলো জানা প্রয়োজন।


