মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং | ঔষধ কোম্পানির ট্রেনিং
আপনারা যারা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং করে MPO পদে চাকরি করতে চান
তাদের জন্য সম্পূর্ণ গাইডলাইন আজকে আমি প্রদান করব। আমরা জানি মেডিকেল প্রমোশন
অফিসাররা হিউম্যান এবং ভেটেনারি দুইটি ক্যাটাগরিতে ট্রেনিং করতে পারে।
যারা হিউম্যান ক্যাটাগরিতে ট্রেনিং করে তারা ওষুধ কোম্পানিতে মানুষের ওষুধ গুলো
নিয়ে কাজ করে। এছাড়া মানুষের নয়টি হিউম্যান বডি সিস্টেম নিয়ে এমপিওদের
পড়াশোনা করতে হয়। মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে চাকরি করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম
ট্রেনিং কোর্স কমপ্লিট করতে হবে।
আমি আজকে এই আর্টিকেলে শেখাবো মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং এ কি কি
শেখানো হয় সেই সম্পর্কে। এছাড়া মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের ট্রেনিং চলাকালীন
সময়ে কার্যকলাপ সমূহ নিয়ে আলোচনা করব।
তাই আপনারা যারা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে চাকরি করতে চান তারা বুঝতে পারবেন এই
সেক্টরে চাকরি করতে হলে আপনাকে প্রতিদিন ট্রেনিং এ কি কি করতে হবে এবং
ট্রেনিং এ কি কি শেখানো হবে সেই সম্পর্কে।
সূচিপত্রঃ মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং
এই ট্রেনিং থেকে আপনি যা যা শিখবেন তা প্রথমে সূচিপত্রে দেখে নিন-
- মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং এ কি শেখানো হয়
- ট্রেনিংয়ে প্রতিদিনের কার্যকলাপ
- মেডিকেল প্রমোশন অফিসার বা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দের ড্রেসাপ
- ট্রেনিং নিয়ম নীতিমালা সমূহ
- ট্রেনিং কোর্স কত দিনে শেষ হয়
- MPO দের কি খাবার দেওয়া হয়
- MPO দের ট্রেনিং টি কাদের জন্য
- Medical service officer এর কাজ কি
- মেডিকেল প্রমোশন অফিসার স্যালারি ইন বাংলাদেশ
- প্রশ্ন উত্তর পর্ব
- উপসংহার
মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং এ কি শেখানো হয়
আপনারা যারা হিউম্যান এবং ভেটেনারি সেক্টরে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার
পদে ট্রেনিং করবেন তাদের শীট প্রদান করার মাধ্যমে ট্রেনিং করানো হবে। আমি এখানে
শুধুমাত্র হিউম্যান ক্যাটাগরির ট্রেনিং করাবো, কারণ আমি একমি ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড
থেকে হিউম্যান সেক্টরে মেডিকেল অফিসার পদে চাকরি করেছি।
বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানি গুলো যে সমস্ত শীট গুলো দিয়ে থাকে সে শীটগুলো একই রকম
না হলেও শীটের ভেতরের বিষয়বস্তু ও ট্রেনিং করার পদ্ধতি একই রকম থাকে।
আমি আজকে এখানে ট্রেনিং কোর্সের সকল বিষয়সমূহ প্রদান করব। আপনারা যারা
ভবিষ্যতে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে চাকরি করতে চান তারা এখান থেকে
ট্রেনিং কোর্সের সকল বিষয়বস্তুগুলো জেনে তারপর ট্রেনিংয়ে যাবেন। এতে করে আপনার
ট্রেনিং করতে অনেক সুবিধা হবে এবং আপনি চাপমুক্ত থাকবেন।
কারণ যারা সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে পড়াশোনা করেননি তাদের ক্ষেত্রে মেডিকেল
সেক্টরের বিষয়গুলো বুঝতে অনেক সমস্যা হয়। ঠিক এই কারণেই অনেক প্রার্থীরা
ট্রেনিং চলাকালীন অবস্থাতে পড়াশোনার চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন
এবং ট্রেনিং ছেড়ে চলে আসেন।
ঔষধ কোম্পানিগুলোতে মাত্র তিন মাসে কোর্স
কমপ্লিট করে, তাই এই তিন মাসে ঔষধ এবং মেডিকেলের বেসিকগুলো শেখানো হয় । এই শীটগুলো ইংরেজিতে প্রদান করা হয় এবং আপনাদের এই শীট গুলো বাংলায়
ট্রান্সলেট করে পড়তে হবে।
Medical representative training এ কি শেখানো হয় জেনে নিন-
Basic Medical Science
এই ক্লাসে মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য বেসিক মেডিকেল সায়েন্সের মূল
ধারণাগুলো শেখানো হয়। এখানে বিভিন্ন গ্রন্থি, হরমোন এবং এনজাইম সম্পর্কেও বেসিক
তথ্য প্রদান করা হয়েছে, যা এমপিওদের কার্যক্ষেত্রে সাহায্য করবে। এই ক্লাসটি
শিখলে মেডিকেল বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে সহায়ক হবে।
Cell-Tissue-Organ and Human Body System
Cell-Tissue-Organ and Human Body System এর এই ক্লাসে কোষের গঠন ও কাজ, বিভিন্ন ধরনের টিস্যু এবং তাদের শ্রেণীবিন্যাস
সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া অঙ্গগুলোর কাজ এবং মানবদেহের
প্রধান সিস্টেমগুলো যেমন হাড়, পেশী, স্নায়ু ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা কীভাবে
কাজ করে তা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এমপিওদের জন্য এই ক্লাসটি মানবদেহের
মৌলিক কাঠামো ও কার্যক্রম বুঝতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
9 Systems of the Human Body
মেডিকেল সেক্টরে চাকরি করার জন্য মানুষের শরীরের নয়টা সিস্টেম শেখা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাবতীয় ঔষধের মেকানিজম সমূহ জানার জন্য
সর্বপ্রথম আপনাকে এই নয়টা সিস্টেম এটুজেড শিখে নিতে হবে।
এছাড়া ওষুধ সম্পর্কে ডাক্তারের সাথে ডিটেলিং করার ক্ষেত্রেও আপনি অনেক
উপকার পাবেন যদি আপনি এই নয়টা সিস্টেম ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন। এই নয়টা
সিস্টেমের ট্রেনিং লিংক আমি নিচে দিয়ে দিচ্ছি-
১. Cardiovascular system
এই ক্লাসে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা বা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের মৌলিক
বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। হৃদপিণ্ডের গঠন, রক্তবাহিকাগুলোর কাজ এবং রক্ত
সঞ্চালনের প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। এমপিওদের জন্য হৃদযন্ত্রের
কার্যকারিতা এবং এর গুরুত্ব বোঝা এই ক্লাসের মূল উদ্দেশ্য।
২. Respiratory system
এই ক্লাসে মানুষের
শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া ও শ্বাসনালী (রেস্পিরেটরি সিস্টেম) এর মূল
অঙ্গ ও কাজ সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শ্বাস নেওয়া,
অক্সিজেন পরিবহন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে তা
এমপিওদের জন্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
৩. Urinary system
এই ক্লাসে মানবদেহের মূত্রনালী ব্যবস্থা (ইউরিনারি সিস্টেম) এর প্রধান
অঙ্গ যেমন কিডনি, ইউরেটার, ব্লাডার ও ইউরেথ্রার কাজ এবং তাদের মাধ্যমে শরীর
থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা
করা হয়েছে। এমপিওদের জন্য এই সিস্টেমের গুরুত্ব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
৪. Nervous system
এই ক্লাসে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো ও কাজের ব্যাখ্যা দেয়া
হয়েছে। ব্রেইন, স্পাইনাল কর্ড এবং স্নায়ু কিভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে
সংকেত পাঠায় এবং শরীরের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তা সহজ ভাষায় আলোচনা করা
হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য স্নায়ুতন্ত্রের গুরুত্ব স্পষ্ট করা
হয়েছে নিচের এই আর্টিকেলে।
৫. Human digestive system
এই ক্লাসে মানুষের পাচনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গগুলো এবং তাদের কাজ সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। খাদ্য কীভাবে পেটে প্রবেশ করে, পেট এবং অন্ত্রগুলো
কীভাবে পুষ্টি শোষণ করে এবং বর্জ্য বের করে, তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য পাচনতন্ত্রের কার্যক্রম বোঝার জন্য
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে নিচের এই আর্টিকেলে।
৬. Musculoskeletal system
এই ক্লাসে মানবদেহের পেশী এবং হাড়ের কাঠামো ও কাজ সম্পর্কে সহজ ভাষায়
ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিভাবে হাড় এবং পেশী একসাথে কাজ করে শরীরকে চলাফেরা এবং
শক্তি প্রদান করে, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন
অফিসারদের জন্য মাংসপেশী ও কঙ্কাল তন্ত্রের মৌলিক ধারণা বুঝতে সাহায্য করবে এই
ক্লাস।
৭. Endocrine system
এই ক্লাসে শরীরের অঙ্গ এবং টিস্যু থেকে নিঃসৃত হরমোন ও তাদের কাজ
সম্পর্কে সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। কিভাবে এন্ডোক্রাইন সিস্টেম শরীরের
বিভিন্ন কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় সাধন করে, তা মেডিকেল প্রমোশন
অফিসারদের জন্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। হরমোনের ভূমিকা এবং গ্রন্থিসমূহের
কার্যকারিতা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দিবে এই ক্লাসটি।
৮. Male and Female reproductive systems
এই ক্লাসে পুরুষ ও মহিলাদের প্রজনন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
দেয়া হয়েছে। মানব দেহে স্ত্রী ও পুরুষ প্রজনন অঙ্গের গঠন, কার্যপ্রণালী এবং
তাদের ভূমিকা সহজ ভাষায় বোঝানো হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য প্রজনন
সংক্রান্ত মৌলিক ধারণাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে নিচের এই ক্লাসটিতে।
৯. Integumentary system
এই ক্লাসে Integumentary system বা ত্বক ব্যবস্থা সম্পর্কে বেসিক ধারণা
প্রদান করা হয়েছে। ত্বকের গঠন, কাজ, বিভিন্ন স্তর ও তার ভূমিকা সহজ ভাষায়
বোঝানো হয়েছে। ত্বক সম্পর্কিত রোগ ও এই রোগ থেকে রক্ষার উপায় সম্পর্কে
মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া হয়েছে নিচের
আর্টিকেলে।
এখান থেকে নয়টার সিস্টেম শেষ। নয়টা সিস্টেম শেষ হওয়ার পরে নিচের ক্লাসগুলো
আপনাদের করানো হবে। চলুন এখন আমরা পরবর্তী ক্লাস গুলো সম্পর্কে জেনে আসি।
Sensory organs
এই ক্লাসে মানব দেহের ইন্দ্রিয় অঙ্গসমূহের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। চোখ,
কান, নাক, জিহ্বা ও স্পর্শ অঙ্গের গঠন ও কাজ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন ইন্দ্রিয় রোগ এবং তাদের প্রাথমিক যত্ন সম্পর্কে
ধারণা দেয়া হয়েছে, যা মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য জানা অবশ্যই
গুরুত্বপূর্ণ।
Basic pharmacology
এই ক্লাসে মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য ফার্মাকোলজির মূল বিষয়াবলী
সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে। ওষুধের ধরন, ওষুধের কাজ করার পদ্ধতি, সঠিক ডোজ ও
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা প্রমোশনে
ফার্মাকোলজির গুরুত্বও এখানে শহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
Medical terminology with dosage forms and packaging types
এই ক্লাসে মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য ওষুধের সাধারণ
টার্মিনোলজি, ডোজেজ ফর্ম এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে
বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কীভাবে বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুত ও পরিবেশন
করা হয়, তা সহজ ভাষায় শেখানো হয়েছে।
Microbiology
এই ক্লাসে মাইক্রোবায়োলজির মূল ধারণা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মাইক্রোঅর্গানিজম যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাসের ভূমিকা এবং তাদের থেকে
সৃষ্ট সংক্রমণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য এই
বিষয়গুলো সহজে বুঝতে সহায়ক তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে নিচের এই আর্টিকেলে।
Infectious diseases
এই ক্লাসে সংক্রামক রোগের মৌলিক ধারণা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন সংক্রামক রোগের কারণ, প্রকারভেদ, সংক্রমণের পদ্ধতি এবং প্রতিরোধের
উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য রোগ
নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় জ্ঞান দেওয়া হয়েছে এই আর্টিকেলে।
Gastrointestinal tract disease
এই ক্লাসে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট (GIT) সংক্রান্ত সাধারণ
রোগ ও অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পেটের রোগ, তাদের লক্ষণ, কারণ এবং
চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য প্রদান করা হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন
অফিসারদের জন্য GIT সংক্রান্ত রোগের মৌলিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে নিচের
এই আর্টিকেলটি।
Non-steroidal anti-inflammatory drugs (NSAIDs)
এই ক্লাসে নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস (NSAIDs) এর
উদাহরণ, কার্যপ্রণালী এবং ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
NSAIDs কীভাবে শরীরের প্রদাহ কমায় এবং কোন রোগে এই ওষুধগুলি প্রযোজ্য, তা সহজ
ভাষায় বোঝানো হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য NSAIDs ওষুধের
বেসিক জ্ঞান অর্জনে উপযোগী নিচের আর্টিকেলটি।
Therapeutic basics of cardiovascular system and Drugs
এই ক্লাসে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং
কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের থেরাপিউটিক বেসিক বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছে।
কীভাবে এই ওষুধগুলি কাজ করে, হৃদরোগের বিভিন্ন অবস্থায় তাদের ভূমিকা এবং
চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে নিচের এই আর্টিকেলে।
Antihistamines and asthma drugs
এই ক্লাসে অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ এবং অ্যাজমার ওষুধ সম্পর্কে মৌলিক
ধারণা দেওয়া হয়েছে। অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া কীভাবে হয়, অ্যান্টিহিস্টামিন
কীভাবে কাজ করে, অ্যাজমার লক্ষণ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ভূমিকা সহজ ভাষায়
ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য এই তথ্যগুলো খুবই
দরকারি।
CNS disease and product details
এই ক্লাসে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম (CNS) সম্পর্কিত রোগের মৌলিক
তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ওষুধের বিস্তারিত ধারনা তুলে ধরা হয়েছে। নার্ভ সিস্টেমের
প্রধান রোগ যেমন পারকিনসন, আলঝাইমার এবং অন্যান্য নিউরোলজিক্যাল সমস্যা নিয়ে
আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া, এই রোগগুলোর চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রধান ওষুধ ও
তাদের কার্যপ্রণালী সহজভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের
জন্য অপরিহার্য।
Diabetes mellitus
এই ক্লাসে ডায়াবেটিস মেলাইটাসের প্রধান কারণ, লক্ষণ এবং প্রকারভেদ
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। টাইপ ১, টাইপ ২ ও টাইপ ৩ ডায়াবেটিসের
মধ্যে পার্থক্য, রোগের প্রধান উপসর্গ যেমন পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং ওজন
কমে যাওয়া ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত
বিভিন্ন ওষুধ ও তাদের কার্যকারিতা সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা মেডিকেল
প্রমোশন অফিসারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্লাস।
Vitamins
এই ক্লাসে ভিটামিনের শ্রেণীবিভাগ এবং প্রতিটি শ্রেণীর উদাহরণসহ তাদের
গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ভিটামিন A, B, C, D, E, এবং K এর কাজ ও তাদের মূল
উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ
এবং সঠিক মাত্রায় গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের
জন্য সহজ ভাষায় জানানো হয়েছে এই আর্টিকেল।
ঔষধের জেনেরিক নাম ও কাজ
এই ক্লাসে সকল ঔষধের জেনেরিক নাম ও তাদের কাজ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
জেনেরিক নাম ও ব্র্যান্ড নামের পার্থক্য, জেনেরিক নাম জানা কেন জরুরি এবং
প্রতিদিন ব্যবহৃত কিছু প্রধান ওষুধের কাজ যেমন—ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক,
অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ—এসব সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
একটি ক্লাস। ওষুধ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে নিচের এই ক্লাসটি আপনাকে সবচেয়ে
বেশি গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে এবং মুখস্ত করে রাখতে হবে সকলে ওষুধের জেনেরিক
নাম।
কোন রোগের জন্য কি টেস্ট করা হয়
সবশেষে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ জব ট্রেনিংয়ে আপনাকে শেখানো হবে কি কি রোগের
জন্য কি কি টেস্ট ডাক্তাররা দিয়ে থাকেন সে সম্পর্কে।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিংয়ে প্রতিদিনের কার্যকলাপ
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ট্রেনিংরত অবস্থায় প্রতিদিন যে সমস্ত কার্যকলাপ
সমূহ রুটিন অনুযায়ী পালন করা লাগবে তা এখন আপনাদের বলব। প্রথমেই বলে রাখি এই
ট্রেনিংয়ে আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে আর এজন্য আপনাকে প্রতিটা টাইম
মেইনটেইন করে চলতে হবে। এছাড়া ট্রেনিং সেন্টারে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা মেনে
আপনাকে ট্রেনিং কমপ্লিট করতে হবে।
তাহলে চলুন আমরা এখন জেনে আসি এই ট্রেনিংয়ে আপনাকে প্রতিদিন কি কি করতে হবে সে
সম্পর্কে-
- প্রথমেই আপনাকে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং গোসল করে ফ্রেশ হয়ে ভোরে পড়তে বসতে হবে।
- এরপর আপনাকে সকালের নাস্তা করে সকাল আটটার মধ্যে রওনা দিতে হবে এবং ৮:৩০ এর মধ্যে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত হতে হবে।
- সকাল নয়টার সময় যিনি আপনাদের ট্রেনিং নিবেন তিনি প্রবেশ করবেন এরপর আপনাদের প্রেজেন্ট কাউন্ট করা হবে।
- এরপরে শুরু হবে মৌখিক ভাইভা পরীক্ষা। এই মৌখিক ভাইভা প্রতিদিন হবে। আমি উপরে আপনাদের যে আর্টিকেলের লিংক গুলো দিয়েছি এই বিষয়বস্তুগুলোর ওপরে ভাইভা হবে।
- ভাইভা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আপনাদের প্রতিদিন লিখিত পরীক্ষা হবে। অর্থাৎ যে টপিকে আপনাদের প্রতিদিন ভাইভা হবে সেই টপিকেই আপনাদের প্রতিদিন লিখিত পরীক্ষা হবে।
- লিখিত পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর আপনাদের ৩০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হবে। এই বিরতির সময় আপনাদের নাস্তা প্রদান করা হবে। সাধারণত সকাল ১০:৩০ মিনিট থেকে ১১:৩০ মিনিটের মধ্যে এই বিরতি দেওয়া হয়।
- এরপরে পুনরায় ট্রেনার ট্রেনিং রুমে আসবে এবং আগামী দিনের জন্য নতুন লেকচার শীট প্রদান করবে। লেকচার শীট প্রদান করা হয়ে গেলে সেই লেকচার শীটের উপরে ট্রেনার আপনাদের ভালোভাবে বাংলায় ধারণা দিয়ে দিবে। কারণ যে লেকচার শীটগুলো প্রদান করা হবে সেগুলো সম্পূর্ণ ইংরেজিতে, তাই ট্রেনার আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য বাংলায় বুঝিয়ে দিবেন। যেহেতু মেডিকেল টার্মের সকল বিষয় ইংরেজিতেই হয়ে থাকে সেহেতু আপনাকেও ইংরেজিতেই পড়ে ও বুঝতে হবে এবং বাংলায় ট্রান্সলেট করে ধারণা নিতে হবে।
- এরপর দুপুরের খাবার বিরতি জন্য ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা বিরতি দেওয়া হবে। ট্রেনিং সেন্টারেই আপনাকে খাবার প্রদান করা হবে।
- এরপরে পুনরায় দুইটার দিকে ট্রেনার আপনাদের ট্রেনিং রুমে আসবে এবং লেকচার শীটের বাকি অংশটুকু বাংলায় বুঝিয়ে দিবে।
- সবশেষে বিকাল ৪:৩০ মিনিট হতে ৫:০০ টার ভেতরেই আপনাদের ছুটি হয়ে যাবে এবং ছুটি হয়ে যাওয়ার সময় আপনাদের নাস্তা প্রদান করা হবে।
- ট্রেনিং শেষ করে এসে আপনাকে একটু রেস্ট নিয়ে লেকচার শীটগুলো মুখস্ত করতে হবে। অবশ্যই ইংরেজিতে মুখস্ত করতে হবে কারণ এই শীটের উপরে পরের দিন ইংরেজিতে মৌখিক এবং লিখিত পরীক্ষা হবে।
- লেকচার শীট অবশ্যই রাত ১০:০০টা থেকে ১১:০০ টার মধ্যে শেষ করতে হবে কারণ পরের দিন খুব ভোরে আপনাকে উঠে আবার রিভিশন দিতে হবে। আপনি যদি লেকচার শীট সারারাত ধরে পড়েন তাহলে ঘুমানোর সময় পাবেন না এবং পরের দিন ভালোভাবে ট্রেনিং করতে পারবে না। তাই এই কথাটি অবশ্যই মাথায় রাখবেন।
- এভাবে পুনরায় পরের দিন খুব ভোরে উঠে প্রতিদিনের মতো কার্যকলাপ গুলো পালন করবেন। যতদিন ট্রেনিং শেষ না হয় ততদিন এভাবে আপনাদের ট্রেনিং কোর্স কমপ্লিট করতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ দুপুরের বিরতির সময় নামাজের জন্য সময় দেওয়া হবে।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসার বা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দের ড্রেসাপ
এমপিওদের যে ধরনের পোশাক আশাক পরতে হয় তা নিম্নরূপ জেনে নিন-
- ট্রেনিংরত অবস্থায় আপনাকে ফরমাল শার্ট এবং ফরমাল প্যান্ট পরতে হবে।
- ফর্মাল জুতা পরতে হবে।
- জুতার নিচে অবশ্যই বড় পা মোজা (Sock) পরতে হবে।
- শার্ট এর ওপরে টাই (Tie) পরতে হবে।
- শীতের সময় যদি ট্রেনিং হয় তাহলে শার্ট এর উপরে স্যুট কোট পরতে হবে।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং নিয়ম নীতিমালা সমূহ
এই ট্রেনিং টি করতে হলে আপনাকে ওষুধ কোম্পানির নিয়ম নীতিগুলো মেনে চলে ট্রেনিং
করতে হবে। যেমন-
- প্রতিদিন ট্রেনিং সেন্টারে ঢোকার সময় সুশৃঙ্খলভাবে কোন শব্দ না করে ঢুকতে হবে।
- ট্রেনিং রুমে প্রবেশ করার পরে সকলকে শান্ত থাকতে হবে এবং যে লেকচার শীটগুলো দিয়েছে সেগুলো মনে মনে পড়তে হবে।
- ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় সুশৃংখলভাবে লাইন ধরে যেতে হবে।
- ট্রেনিং রুম এবং ট্রেনিং রুমের আশেপাশে অর্থাৎ ট্রেনিং সেন্টারে কোন ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবে না।
- পায়ে শব্দ করে জোরে জোরে হাটা যাবে না অর্থাৎ খুব ভদ্রতার সহিত আপনাকে চলাফেরা করতে হবে।
- ট্রেনিং রুম ছাড়া অন্যান্য রুমে প্রবেশ নিষিদ্ধ তাই ট্রেনিং রুম ছাড়া অন্যান্য রুমে যাওয়া যাবে না।
- ট্রেনিং রুমের মধ্যে খুব ভদ্রতার সহিত বসে থাকতে হবে অর্থাৎ এমন ভাবে বসে থাকা যাবে না যেন আপনাকে দেখলে মনে হয় আপনি কাউকে অসম্মান করছেন।
- যখন ট্রেনিং রুমে ট্রেনার থাকবে না তখন ক্যাপ্টেনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আপনাদের ট্রেনিং রুমে কার্যকলাপ পালন করতে হবে।
- নাস্তা এবং খাবারের বিরতি দেওয়ার পর সেই খাবারগুলো নেওয়ার জন্য আপনাদের সুশৃংখলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার গুলো সংগ্রহ করতে হবে।
- ট্রেনিং এর অন্যান্য কলিগদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করতে হবে।
- ট্রেনিংরত অবস্থায় ছোট পা মোজা (Sock) পরা যাবে না। ট্রেনিং শেষ হয়ে গেলে আপনি ছোট গুলো পড়তে পারেন, তখন কোন সমস্যা হবে না।
- প্রতিদিন অবশ্যই জুতা পালিশ করতে হবে।
- প্রতিদিন শার্ট এবং প্যান্ট আয়রন করে পরতে হবে।
- আপনার মাথায় যত বড় চুল থাকলে আপনাকে দেখতে ভালো লাগবে ঠিক ততটাই চুল রাখবেন এবং সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে রাখবেন।
- প্রতিদিন সকালে গোসলের সময় ক্লিন সেভ করতে হবে। যাদের মুখে বড় দাড়ি রয়েছে তারা প্রতিদিন সকালে দাড়ি সেটে সুন্দর করে রাখতে হবে।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং কোর্স কত দিনে শেষ হয়
বাংলাদেশে যে সমস্ত ওষুধ কোম্পানিগুলো রয়েছে সেগুলোতে সাধারণত
তিন মাসের জন্য মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ট্রেনিং করানো হয়। তবে কিছু
কিছু ওষুধ কোম্পানিকে একমাস কিংবা দুই মাসের মধ্যে ট্রেনিং শেষ করতে দেখা যায়।
মনে রাখবেন যে সমস্ত ওষুধ কোম্পানিগুলো মানুষের শরীরের নয়টা সিস্টেম শেখায় সে
সমস্ত ওষুধ কোম্পানিতে ট্রেনিং শেষ করতে তিন মাস সময় লাগে।
আর যে সমস্ত ওষুধ কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র তাদের ওষুধের নাম এবং জেনেরিক নাম
মুখস্ত করায় তারা সাধারণত এক মাস থেকে দুই মাসের মধ্যেই ট্রেনিং শেষ করে দেয়।
বাংলাদেশের সেরা ২০টি ওষুধ কোম্পানিগুলোর ট্রেনিং সবচেয়ে ভালো এবং উন্নত মানের
হয়ে থাকে। বিশেষ করে একমি ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, ইনসেপ্টা,
বেক্সিমকো, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, অপসোনিন, এসকেএফ, রেনেটা, এসিআই, হেলথকেয়ার,
রেডিয়েন্ট, পপুলার এগুলোতে খুব ভালো ট্রেনিং করানো হয়।
MPO দের কি খাবার দেওয়া হয়?
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসাররা ট্রেনিংরত অবস্থায় ট্রেনিং রুমে যে সমস্ত
খাবার গুলো পেয়ে থাকে তা নিম্নরূপ নিচে দেওয়া হল-
- প্রতিদিন আপনাকে বোতলজাত পানি দেওয়া হবে।
- সকাল ১১ টার দিকে স্ন্যাক্স বা হালকা খাবার দেওয়া হয় এবং সকালের নাস্তা শেষে চা দেওয়া হয়।
- দুপুরে ভাত, মাংস, সবজি, মাছ, ডাল, ডিম ইত্যাদি দেওয়া হয় এবং মাঝে মাঝে দুপুরে বিরিয়ানি দেওয়া হয়।
- বিকালে ট্রেনিং শেষে পুনরায় স্ন্যাক্স বা হালকা খাবার দেওয়া হয় এবং বিকালের নাস্তা শেষে চা দেওয়া হয়।
MPO দের ট্রেনিং টি কাদের জন্য?
এই আর্টিকেলের ভেতরে যে ট্রেনিং ক্লাস গুলো দেওয়া হয়েছে এগুলো মেডিকেল
প্রমোশন অফিসার ছাড়াও যারা নার্স রয়েছেন তাদের অনেক উপকারে আসবে। এছাড়া যারা
(3 Month বা 6-month pharmacy) কোর্স করতে চান তারাও আমার এই ট্রেনিং ক্লাসগুলো
থেকে উপকৃত হবেন। কারণ এখানে হিউমান বডি ও মেডিকেল সাইন্সের বেসিক তথ্য জানার
পাশাপাশি ওষুধের সকল জেনেরিক নাম এবং জেনেরিক গুলোর কাজ জানতে পারবেন।
এছাড়া আপনারা যারা Online Pharmacy course করতে চান, তারা অবশ্যই এই ট্রেনিং
ক্লাসগুলো শিখে রাখুন কারণ এটি একটি Short medical course। আবার যারা ফার্মেসির
দোকানে থাকতে চান এবং ফার্মেসির ব্যবসা করতে চান তারা যদি এই ট্রেনিং কাজ
ক্লাস গুলো আগে শিখে নেন, তাহলে আপনাদের ব্যবসা করতে আরও সুবিধা হবে।
Medical service officer এর কাজ কি
বর্তমানে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি দিন দিন আধুনিক হচ্ছে। সেই সঙ্গে
বদলাচ্ছে পদের নামও। অনেক কোম্পানি এখন Medical Promotion Officer (MPO) বা
Medical Information Officer (MIO) এর বদলে ব্যবহার করছে নতুন একটি টাইটেল। এই
নতুন টাইটেলটির নামই Medical Service Officer (MSO)।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, Medical Service Officer এর কাজ আসলে কী? চলুন সহজভাবে জেনে
নিই।
মেডিকেল সার্ভিস অফিসারের প্রধান কাজগুলো:
- MSO-দের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো চিকিৎসকদের কাছে কোম্পানির ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা। তারা ওষুধের উপাদান, কাজের ধরন, ডোজ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি ব্যাখ্যা করেন।
- MSO-রা নিয়মিত ডাক্তারদের ভিজিট করে একটি ভালো পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এতে চিকিৎসকেরা কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে আস্থা পান।
- MSO পদের একজন সদস্য হিসেবে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী বিক্রি (sales) নিশ্চিত করতে হয়।
- প্রতিদিনের কার্যক্রম সম্পর্কে রিপোর্ট প্রস্তুত করা, ভবিষ্যতের প্ল্যান তৈরি করা এবং এরিয়া ম্যানেজারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো—এসবও MSO-র দায়িত্বের অংশ।
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার এবং মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার দের
যেসব কাজ রয়েছে ঠিক তেমনি একই কাজ করে মেডিকেল সার্ভিস অফিসার। এখানে
শুধুমাত্র নামের পার্থক্য রয়েছে।
বিভিন্ন কোম্পানি মেডিকেল প্রমোশন অফিসার এর পরিবর্তে যেমন মেডিকেল
রিপ্রেজেন্টেটিভ নাম ব্যবহার করে। ঠিক তেমনি অনেক কোম্পানির রয়েছে যারা
বর্তমান সময়ে মেডিকেল সার্ভিস অফিসার বা মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার নাম ব্যবহার
করছে। কোম্পানি ভেদে এদের কাজ কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে তবে অধিকাংশ কাজই
প্রায় একই থাকে।
বর্তমানে অনেক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি চায় তাদের ব্র্যান্ড ইমেজ আরও আধুনিক
ও পেশাদার হোক। তাই পুরনো MPO বা MR শব্দের বদলে ব্যবহার করছে-
- Medical Service Officer (MSO)
- Medical Information Officer (MIO)
- Professional Service Officer (PSO)
- Territory Officer (TO) ইত্যাদি।
মেডিকেল প্রমোশন অফিসার স্যালারি ইন বাংলাদেশ
এমপিওদের এভারেজ বেতন সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার আশেপাশে থাকে (সবকিছু
মিলিয়ে)। প্রথম অবস্থায় তাদের বেতন ২০ হাজার টাকার আশেপাশে হলেও পরে আস্তে
আস্তে এই বেতন বেড়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়। মেডিকেল
রিপ্রেজেন্টেটিভরা যত ভালো এচিভমেন্ট অর্জন করতে পারে তত বেশি বেতন পায়। এদের
বেতন কাঠামোতে রয়েছে
TA/DA, Sales Incentive, Medical allowance, Mobile allowance ইত্যাদি।
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ দের বেতন কত এবং এদের কাজ কি সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ
ধারণা পেতে আমার নিচের এই আর্টিকেলটি পড়ুন।
Medical promotion officer training সম্পর্কে প্রশ্ন উত্তর পর্ব
১. মেডিকেল প্রমোশন অফিসার কাকে বলে?
উত্তর: মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (MPO) হলেন একজন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির
প্রতিনিধি, যিনি ডাক্তারদের কাছে ওষুধের বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরেন এবং চিকিৎসা
সম্পর্কিত পরামর্শ দেন।
২. MPO রা শুধু সেলস এর কাজ করে?
উত্তর: না, MPO কেবল সেলস কাজ এর পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঠিক তথ্য দিয়ে ওষুধ
ব্যবহারে সহায়তা করেন। কোম্পানির ওষুধ প্রমোশনের জন্য এটি একটি দায়িত্বপূর্ণ
পেশা।
৩. MPO হওয়ার জন্য কী যোগ্যতা লাগে?
উত্তর: সাধারণত যে কোনো গ্র্যাজুয়েট (বিজ্ঞান, বাণিজ্য, আর্টস) হলেই আপনি এই
চাকরি করতে পারবেন। তবে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থীদের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া
হয়।
৪. মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের ক্যারিয়ার গ্রোথ কেমন?
উত্তর: এই পেশায় দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ থাকে। MPO থেকে আপনি Area Manager,
Regional Manager, Marketing Manager এমনকি General Manager পর্যন্ত হতে
পারবেন।
৫. MPO কি মাঠ পর্যায়ের কাজ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি ফিল্ড লেভেল জব। আপনাকে এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ডাক্তারদের
চেম্বার বা হাসপাতাল ভিজিট করতে হবে এবং ডিটেইলিং-রিপোর্টিং করতে হবে।
৬. মেডিকেল প্রমোশন অফিসার কি গাড়ি পান?
উত্তর: বেশিরভাগ কোম্পানি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল ভাতা দেয়। তবে সিনিয়র
পর্যায়ে গাড়িও দেওয়া হয়।
৭. মেয়েরা কি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হতে পারে?
উত্তর: অবশ্যই পারে। এখন অনেক মেয়েরা এই পেশায় সফলভাবে কাজ করছে, বিশেষ করে
শহরভিত্তিক দায়িত্বে। বর্তমানে এসকেএফ কোম্পানিতে মেয়েদের বেশি নিয়োগ দেওয়া
হচ্ছে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, মেডিকেল প্রমোশন অফিসার ট্রেনিং (Human) প্রোগ্রামে সাধারণত
ওষুধের জ্ঞান, শরীরের সিস্টেম, কমিউনিকেশন স্কিল ও সেলস টেকনিক শেখানো হয়।
নতুনদের সহজভাবে মেডিকেল ফিল্ডে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করানো হয়। এই
ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে একজন এমপিও কীভাবে ডাক্তারদের কাছে প্রোডাক্ট উপস্থাপন
করবে, তা হাতে-কলমে শেখানো হয়। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ
প্রস্তুতি দেওয়া হয় এই ট্রেনিংয়ে। যারা এই পেশায় আসতে চান, তাদের জন্য এই
ট্রেনিং টি অবশ্যই প্রয়োজন।




